দেশজুড়ে তীব্র গ্যাসসংকটে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, কোথাও কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পমালিকরা বিকল্প হিসেবে এলপিজি, বিদ্যুৎ ও তেল ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
টঙ্গীর আনোয়ার গ্রুপের দুটি কারখানায় প্রয়োজনীয় ১৫ পিএসআইয়ের বিপরীতে গ্যাসচাপ নেমে এসেছে ৪ পিএসআইয়ের নিচে। এতে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ধামরাইয়ের ইনডেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও দুই বছর ধরে গ্যাস সংযোগ না পেয়ে বিদ্যুৎ দিয়ে সীমিত উৎপাদন চালাচ্ছে। গাজীপুরে গ্যাসসংকটের কারণে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসসংকটসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ৩০০টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। বিটিএমএ বলছে, ২০১৪ সাল থেকে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, চার থেকে পাঁচ বছর ধরে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে ৫৫০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গ্যাসসংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমবে, শ্রমিক ছাঁটাই বাড়বে এবং আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, শুধু এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
গ্যাসসংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও পরিবহন খাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রাতে রান্না করছেন। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও চালকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, পরিবহন ও আবাসিক-সব খাতেই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।


