কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতির পর মা ও মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় বিএনপির এক কর্মীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় একটি বাড়িতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল প্রবেশ করে। জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে তারা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে। তারা হলেন- রেজাউল করিম, তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু, কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইট্ট্যা, মোহাম্মদ তানজিদ, মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ তারেক।

অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতির একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে। পরে তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানে মামলার অন্যতম মূলহোতা জিসানসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিসানকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করে একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বিএনপির কর্মী।

মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না- ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী মা ও মেয়ের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version