ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগত শিবির কর্মীর বিরুদ্ধে সমকামী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে হল প্রশাসন হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থানরত দুই যুবক আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলছেন এবং ভিডিওটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমা চাইছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এজিএসের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই শিবির কর্মী কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য ধারণ করলেও বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এজিএস ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা পরিচিত দুই ব্যক্তিকে মানবিক কারণে কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে বিষয়টি সম্পর্কেও তাকে কেউ অবহিত করেনি। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কথোপকথনের রেকর্ডও উপস্থাপন করেন। ওই অডিওতে এক অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তারা ‘শয়তানের ধোঁকায়’ পড়ে এমন কাজে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন, তবে রুমমেট দেখে ফেলায় তা আর সম্পন্ন করতে পারেননি।

এদিকে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ হল প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version