পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সকালে উপজেলার মাধবখালি ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মাধবখালি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। বাড়ির পাশে একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহসিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের কাছে তাবিজ নিতে যেতেন। অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ছেলেকে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ঘরের ভেতরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

ভুক্তভোগী বিবাহিত এবং তার নয় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যায় ওই নারীকে বাড়িতে নিয়ে যান।

প্রায় দুই ঘণ্টা ঘরের ভেতরে অবস্থানের পর হঠাৎ নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version