গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান; ঘটনাস্থলে সিটিটিসি-এটিইউ, যাচাই চলছে পরিচয় ও সংগঠনগত সম্পৃক্ততা
রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের জামে মসজিদে কথিত গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি বা উগ্রবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ বলছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটকদের তেজগাঁও থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিচয়, বৈঠকের উদ্দেশ্য ও কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না- এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মসজিদের ভেতরে গোপনে বৈঠক চলছে- এমন তথ্য পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। শুক্রবার বিকেলে অভিযান শেষে ২৩ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদের দ্বিতীয় তলায় একটি বৈঠক চলছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ২৩ জনকে আটক করা হয়।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা ঘটনাটি যাচাই করছেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মসজিদে চলা বৈঠক থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো আটকদের কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেনি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- কেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মসজিদের ভেতরে এতজনকে নিয়ে গোপন বৈঠক করা হচ্ছিল এবং বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য কতটা নির্দিষ্ট ছিল, বৈঠকে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছিল, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পূর্বপরিচিত কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য রয়েছে কি না এবং বৈঠকের সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।


