দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের করাচি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- এমনটাই দাবি করেন দেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার এই বক্তব্যে যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তারেক রহমানের পাকিস্তান সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা দাদা-দাদির কবর জিয়ারতকে সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। পাকিস্তানের সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের জন্ম করাচিতে। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ও পাকিস্তানের করাচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে করাচির সঙ্গে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের পারিবারিক শিকড় ও স্বজনদের কবর জিয়ারতের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার বাবা-মা ও বোনের কবর জিয়ারত করে জানান, সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যাবেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান দিনাজপুরকে তাঁর নানা-নানির দেশ এবং বগুড়াকে দাদা-দাদির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন। ২৭ ডিসেম্বর তিনি রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এর আগে বাবা জিয়াউর রহমানের কবরেও ফাতেহা পাঠ করেন।

২০২৬ সালের মার্চে ঈদুল ফিতরের দিনও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন তিনি।

তারেক রহমান পাকিস্তান সফরে গেলে সেটি শুধু পারিবারিক সফর হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না- বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তা গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সফরটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version