বাল্যবিবাহ ঠেকাতে অভিযান, এরপর মেয়েটির কী হলো?

নওগাঁয় বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতই চলছে। খবর পেলেই পুলিশ-প্রশাসন হাজির, বিয়ে বন্ধ, জরিমানা, মুচলেকা- সবই হচ্ছে। কিন্তু এরপর? মেয়েটি স্কুলে ফিরল কি না, পরিবার আবার বিয়ের চেষ্টা করল কি না- তার খোঁজ কতটা রাখা হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

গত মাসে আত্রাইয়ে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রশাসন গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে। কনের অভিভাবককে জরিমানা করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়। প্রশাসনের খাতায় এটি সফলভাবে প্রতিরোধ করা একটি বাল্যবিবাহ।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের দল চলে যাওয়ার পর পরিবারগুলো আবার গোপনে বিয়ের আয়োজন করে। মেয়েকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে অন্য এলাকায় কিংবা রাতের আঁধারে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় ৯৯৯ ও ১০৯-এ খবর পেয়ে নিয়মিত বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হচ্ছে। কোথাও জরিমানা, কোথাও কারাদণ্ডও হচ্ছে। কিন্তু বন্ধ হওয়া বিয়েগুলোর পরবর্তী নজরদারি দুর্বল।

স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’র তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রশাসনের সহযোগিতায় ৫০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অনেকেই পরে আবার মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বা বিয়ে দিয়েছে।

রাণীনগরের একটি ঘটনায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হওয়ার পর মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্বও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর পরিবারটি মেয়েটিকে আবার বিয়ে দিয়ে দেয় বলে জানায় সংস্থাটি।

প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে কাজি ছাড়াই মৌলভি ডেকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বয়স বাড়িয়ে দেখাতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

অনিবন্ধিত বিয়ের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মেয়েটিই। পরে স্বামী বিয়ে অস্বীকার করলে কিংবা নির্যাতন হলে তার অধিকার প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বাল্যবিবাহ বন্ধের সাফল্য শুধু কতটি অভিযান হয়েছে বা কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে- এতে মাপা উচিত নয়। দেখতে হবে, মেয়েটি স্কুলে ফিরেছে কি না এবং ১৮ বছর পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে পেরেছে কি না।

প্রতিটি বন্ধ হওয়া বিয়েকে ‘ফলোআপ কেস’ হিসেবে নিয়ে অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েটির শিক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ প্রশাসন একদিনের জন্য বিয়ের আসর ভাঙতে পারে, কিন্তু একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে নজরদারি চালাতে হবে বছরের পর বছর।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version