নয়াদিল্লিতে ভার্চুয়াল আয়োজনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তার আভাস

দীর্ঘ দুই বছর পর আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রথমবারের মতো একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি অডিও সংযোগের মাধ্যমে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

এই সম্মেলনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই প্যানেলে থাকছেন তার ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়া প্যানেলে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং শাহ মো. বখতিয়ার।

এফসিসি সাউথ এশিয়ার প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তার সম্ভাব্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। যদিও তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না, তবে অডিও সংযোগের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান, সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দলটির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আয়োজকরা এখন পর্যন্ত তার বক্তব্যের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।

এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ জানিয়েছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতির অংশ হিসেবেই শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, এই আয়োজন নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি জানানো হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা এতে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা ও প্যানেল সদস্যদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জঙ্গী হামলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে। ওই দিন কথিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান এবং তার টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি।

সে কারণে প্রায় দুই বছর পর এই ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে শেখ হাসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রকাশ্য বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে সাবেক জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের একই প্যানেলে অংশগ্রহণও সম্মেলনটিকে ঘিরে জনমনে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version