অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে বিদেশে চিকিৎসা বাবদ সরকারি অর্থ গ্রহণকারী উপদেষ্টাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়কারী।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় হিসেবে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সরকারি অর্থ নিয়েছেন আরও কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা। এর মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা, সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা, সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা।
এ ছাড়া সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা, সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
জানা যায়, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় হঠাৎ জটিল শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন তিনি। দেশে দীর্ঘ সময়েও রোগ নির্ণয় সম্ভব না হওয়ায় সরকারের অনুমোদন নিয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। সেখানে তিনি তিন দফায় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন বলেও জানান।
সরকারি অর্থে বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের এই তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয়, এর যৌক্তিকতা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।


