দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায় অতিক্রম করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮ জন, সিলেটে ৮২ জন, ময়মনসিংহে ৬২ জন, চট্টগ্রামে ৫১ জন, বরিশালে ৪০ জন, খুলনায় ২৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জন মারা গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন ৯৬৫ জন। তাদের মধ্যে ৯০২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় অংশই শিশু ও কিশোর বয়সী বলে জানা গেছে।
বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৩৭২ জন, চট্টগ্রামে ১৮০ জন, বরিশালে ১০৭ জন, সিলেটে ৮৭ জন, ময়মনসিংহে ৫৮ জন, রাজশাহীতে ৪৪ জন, খুলনায় ৪১ জন এবং রংপুরে ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করে ১২ হাজার ২৮৬ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৬ হাজার ৪১১ জন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮২ হাজার ৭৫৯ জন। তবে এখনও নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা, জনসচেতনতার অভাব এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ সতর্কতা না থাকায় রোগটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্রমাগত বাড়তে থাকা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, হাম এখন দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


