নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য এবং নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৩৮১ জন। তবে রয়টার্সের হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে মোট ২৯২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালেই ২৮৯ জন এবং তিব্বতে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেশটিতে ২৮৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়- ১০৮টি। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুওয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতেও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে দেশটিতে বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুই অঞ্চলের নিখোঁজের সংখ্যা যোগ করলে মোট সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছায়।
এএফপির প্রকাশিত নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের ১২৭ জন, চীনের ১০০, ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ৯, সিঙ্গাপুরের ৯, জার্মানির ৮, রাশিয়ার ৮, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬, লাটভিয়ার ৬, জাপানের ৫, নিউজিল্যান্ডের ৫, ফ্রান্সের ৪ এবং স্পেনের ৪ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও নিখোঁজ রয়েছেন বেলজিয়ামের ৩, পর্তুগালের ২, নেদারল্যান্ডসের ২, ইতালির ২, আয়ারল্যান্ডের ২, কাজাখস্তানের ২ এবং হাঙ্গেরির ২ নাগরিক। এছাড়া বেলারুশ, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইনস, সার্বিয়া, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের একজন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং গন্তব্য। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন। পাশাপাশি কৈলাসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও তীর্থস্থান ঘিরেও নেপাল ও তিব্বতে বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে। ফলে দুর্যোগের সময় নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই, উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন তালিকার মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় প্রাথমিক পরিসংখ্যানে অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে।
এএফপি জানিয়েছে, দ্বৈত নাগরিকদের ভুলভাবে একাধিকবার গণনা করা, উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে নিখোঁজদের তালিকা মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া এবং দুর্যোগের সময়ের বিশৃঙ্খলার কারণে হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
এ অবস্থায় নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীও কাজ করছে।


