বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি মেসের কক্ষ থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার (২৬) নামে এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত উচ্ছ্বাস কর্মকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া নেওয়া কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, উচ্ছ্বাস একাই ওই কক্ষে বসবাস করতেন। কয়েক দিন ধরে তার কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও তাকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় পাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তীব্র পচা দুর্গন্ধ টের পেয়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উচ্ছ্বাসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় কক্ষটি বন্ধ থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
বরিশাল বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি ঘিরে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টির সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


