সরকারি চাকরি পেতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিজের পরিবর্তে অন্যকে (প্রক্সি) দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদান করতে এসে সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে পরিচয়ের অমিল ধরা পড়লে পুরো জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে এলে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলাম।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. হালিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।
ওই দিন ২০ জন অফিস সহায়ক এবং ৫ জন সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের নির্ধারিত তারিখ ছিল। যোগদানের সময় প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে চারজনের চেহারার মিল পাওয়া যায়নি। এতে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাদের কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়।
যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, আটক চারজন নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। বরং তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন। শুধু মৌখিকভাবেই নয়, লিখিত স্বীকারোক্তিতেও তারা জানান যে, তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি পরীক্ষা দিয়েছিল।
গত ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সে সময় প্রতিটি প্রার্থীর ছবি সংরক্ষণ করা হয়। সেই সংরক্ষিত ছবিই শেষ পর্যন্ত জালিয়াতি শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।
এ ঘটনায় আটক চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতারণার একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংরক্ষিত ছবি যাচাইয়ের কারণে জালিয়াতি ধরা পড়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নজরদারির কার্যকারিতাও আবারও প্রমাণিত হয়েছে।


