মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালুর ব্যবসা। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়েও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বন্দর, ফেরিঘাট, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বলগেটে করে আনা বালু ফেরি ও লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীতীরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে সেই বালু ট্রাকে তুলে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাকের যাতায়াতে বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ধুলাবালু ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, বন্দর এলাকার ১০ থেকে ১২টি স্থানে অবৈধভাবে বালু মজুত করা হয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা তা উপেক্ষা করছেন। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় সংস্থাটি উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারছে না বলে দাবি করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অভিযান হয়নি।
বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত রায় বলেন, অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বালু রাখার কারণে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা, ঘাট স্থানান্তর এবং যাত্রী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর তীর থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং বন্দর অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও অভিযুক্তদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা নিজস্ব বা বন্ধক নেওয়া জমিতে ব্যবসা করছেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলা এই অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বর্তমান বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।


