ভারতে প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতন বা জীবন রক্ষার তাগিদে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, বরং আইনি কাঠামোর আওতায় ‘শরণার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনা কর্মসূচির সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্মীয় নির্যাতন বা জীবন বাঁচানোর তাগিদে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নির্দিষ্ট ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের হয়রানি করতে পারবে না।
এই বিধান নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এসব মানুষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন; বরং মানবিক ও আইনি বিবেচনায় তারা শরণার্থী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না।”
তার এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গে একদিকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘুদের মানবিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও নীতিগত-উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


