রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে বানোয়াট প্রচারিত সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদেশ ঘোষণার পর আদালত কক্ষে তার দেওয়া বক্তব্য ও আচরণ ঘিরে সৃষ্টি হয় আলোচিত ও আবেগঘন এক পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় মক্কেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চান। আদালত উভয় আবেদনই মঞ্জুর করেন।

ঠিক তখনই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। হাতে মাইক নিয়ে তিনি বারবার বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” কিন্তু ততক্ষণে বিচারকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য শোনা হয়নি।

এ সময় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “হায়রে হায়, এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাব?” পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো, সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে?”

আদালত কক্ষ ত্যাগ করার সময় তিনি আরও বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এর আগের দিন বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version