বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভুয়া জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিশেষ করে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পরিচয়ে পাড়ি দিচ্ছেন অনেক রোহিঙ্গা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও নেত্রকোনায় পাসপোর্ট করতে গিয়ে একাধিক রোহিঙ্গা আটক হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এদিকে জাল পাসপোর্ট তৈরি ও সরবরাহে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ২৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা এ চক্রের বিস্তৃতি ও সক্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরব সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তালিকার বাইরেও বাংলাদেশি পরিচয়ে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রয়েছেন। এতে জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং বৈধ শ্রমবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সময় এক রোহিঙ্গা যুবক ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে ধরা পড়েন। একইভাবে চাঁদপুরে দুই রোহিঙ্গা নারী এবং নেত্রকোনায় সৌদি আরবের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী এক রোহিঙ্গাও পাসপোর্ট করতে গিয়ে আটক হন।

দালালচক্রের মাধ্যমে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরি করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক লাখ টাকাও নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে।

শুধু পাসপোর্ট অফিসে কড়াকড়ি নয়, জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি ইস্যুর পর্যায় থেকেই কঠোর যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ডেটাবেসের সঙ্গে সরকারি তথ্যভান্ডারের সমন্বয়, জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিকল্প নেই।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version