বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ও গাজার মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে বাংলাদেশের হিন্দু আর গাজার মুসলমান সবচেয়ে হতভাগা।”
ফজলুর রহমান এর আগেও জাতীয় সংসদে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের জুনে সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধদের ঐতিহাসিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মন্দির নির্মাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে সহনশীল অবস্থানের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করার সমালোচনাও করেন।
অন্য এক বক্তব্যে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ইচ্ছামতো মূর্তি বা মন্দির নির্মাণ করলে তাতে তাঁর আপত্তি নেই। তিনি ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের নীতিকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য বরাবরই জনপরিসরে গুরুত্ব পায়।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারেও ফজলুর রহমান বলেছিলেন, তাঁর দল ‘সংখ্যালঘু’ শব্দে বিশ্বাস করে না; বরং দেশের সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে দেখার কথা বলেন। তিনি আরও মত দেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত যেখানে হিন্দু নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিজেদের অনিরাপদ মনে না হয়।
অন্যদিকে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের বিষয়। গাজার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একই বক্তব্যে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ও গাজার মুসলমানদের প্রসঙ্গ টেনে আনার মধ্য দিয়ে ফজলুর রহমান ধর্মীয় নিপীড়ন, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটকে একটি বৃহত্তর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বার্তা হিসেবে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং গাজার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।


