জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে প্রশ্ন

বাংলাদেশে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা- আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)- ছোট ছোট সেল বা সাংগঠনিক ইউনিট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট মনিটরিং টিম। সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের Analytical Support and Sanctions Monitoring Team আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার সাংগঠনিক অবস্থান ও সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে অটুট রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো বড় ইউনিটের ওপর নির্ভর না করে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল, রসদ সরবরাহব্যবস্থা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলের অন্যতম উদ্বেগ।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে একিউআইএসের সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো- দেশের ভেতরে সংগঠনটির সম্ভাব্য যোগাযোগ, অর্থের উৎস, রসদ সরবরাহ এবং স্থানীয় সহযোগী নেটওয়ার্ক নিয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের এমন সতর্কবার্তার পর দেশে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সংগঠন, অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীর মাধ্যমে উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সুযোগ পাচ্ছে কি না- তা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা রাষ্ট্রীয় নজরদারির ঘাটতি থাকলে উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

জাতিসংঘের মূল্যায়নে আরও উঠে এসেছে, আল-কায়েদার শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র বা ‘তাজকিরা’ তাদের হাতে থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি আফগানিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তপারের হামলাও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। টিটিপিকে ঘিরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের টানাপোড়েনের মধ্যেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নতুন সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে একিউআইএসের সম্ভাব্য সেল গঠনের বিষয়টি তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সম্ভাব্য অর্থের উৎস, অনলাইন যোগাযোগ, বিদেশি যোগাযোগ, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং স্থানীয় সহযোগী নেটওয়ার্ক দ্রুত শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশের মাটিতে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন নেটওয়ার্ককে সুযোগ করে দিচ্ছে কি না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version