দেশের বিদ্যুৎ খাতে গত দেড় দশকে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও উৎপাদনে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।
দেশের মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে করা হয়েছে। এই সংখ্যার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৯ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সরকার ১২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। একই সময়ে আরও ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন ছিল, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৪ হাজার ১৩৪ মেগাওয়াট।
তখনকার হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কয়েক বছরের মধ্যে তা বেড়ে ১৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। পাশাপাশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও শুরু হয় এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর এই সম্প্রসারণের ফলে দেশের বিদ্যুৎ-সংযোগের আওতাও ব্যাপকভাবে বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ১২২টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি কোটি কোটি নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিল।
তবে বর্তমান হিসাবের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ মালিকানায় মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে এবং এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন কেন্দ্র ৬৪টি, বেসরকারি ৬৯টি এবং যৌথ মালিকানার কেন্দ্র ৩টি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বাস্তবে এই সক্ষমতার পুরোটা সবসময় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতার বিপরীতে দৈনিক গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি, তেল সরবরাহ ও বিভিন্ন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।


