যশোরের অভয়নগরে টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একটি পোলট্রি খামারে চার শতাধিক মুরগির মৃত্যু হয়েছে। ঋণের টাকা নিয়ে বেকারত্ব ঘোচাতে খামার গড়ে তোলা দুই তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন এখন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খামারের উদ্যোক্তা যমজ ভাই মো. হাসান ও মো. হোসেন ২০২৩ সালে একটি এনজিও থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৫ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা খামারটিই ছিল তাদের পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

শুক্রবার পর্যন্ত খামারে বিভিন্ন বয়সী প্রায় আড়াই হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি মুরগি কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায়।

খামারি হাসান বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। ধারদেনা করে খামার করেছি। ভেবেছিলাম মুরগি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।’

তিনি জানান, খাবার ও ওষুধের দোকানে বাকি এবং অন্যান্য ঋণসহ তাদের প্রায় সোয়া লাখ টাকা দেনা রয়েছে। মুরগিগুলো বিক্রি করে সেই দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বেকারত্ব ঘোচাতে ঋণের টাকায় খামার গড়ে তোলা দুই ভাইয়ের কাছে চার শতাধিক মুরগির মৃত্যু শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, বরং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার এই ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে- এখন সেই প্রশ্নই ভুক্তভোগী পরিবারের সামনে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version