দুই দিনের অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার সকালে তাঁর বিমান দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় সাত বছর পর তাঁর এই ভারত সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শি জিনপিং ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে আজই দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। ২০২৪ সালের সীমান্ত সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা গেলেও সীমান্ত বিরোধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতার মতো বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

মোদি-শি বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সতর্ক প্রত্যাশা রয়েছে।

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর নেতারা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কার সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উত্তেজনার মধ্যে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে জোটটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

শি জিনপিংয়ের ভারত সফর তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এশিয়ার দুই প্রভাবশালী শক্তির সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেদিকেও নজর রাখছে বিশ্ব।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version