কিশোরগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা যেন মুহূর্তেই একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন কেড়ে নিল। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস-যে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে দেখতে হলো সড়কে পড়ে থাকা নিথর দেহটি তারই আদরের ছেলের।

শুক্রবার (সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার আব্দুল ওয়াহেদ জনতা স্কুল সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তুহিন (১০) স্থানীয় আব্দুল ওয়াহেদ জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা সামছুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক কনস্টেবল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার খবর পায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা। নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে কনস্টেবল সামছুলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তের মুখোমুখি হন তিনি। সড়কে পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ যে তার নিজের ছেলে তুহিন-এ দৃশ্য দেখেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবার সেই আহাজারিতে উপস্থিত মানুষের চোখেও নেমে আসে অশ্রু।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তুহিনের মরদেহ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালেও সহকর্মীদের সামনে ছেলেকে হারানোর শোকে বারবার বিলাপ করতে দেখা যায় সামছুলকে। সহকর্মীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সন্তানের শোক কোনোভাবেই সামলাতে পারছিলেন না তিনি।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, কনস্টেবল সামছুলের বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে গাইটাল এলাকায় জনতা স্কুলসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিন ছেলের মধ্যে তুহিন ছিল মেঝো। শুক্রবার সকালে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

একটি সাধারণ স্কুলের সকাল, দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া এক পুলিশ সদস্য, আর মুহূর্তেই বদলে যাওয়া একটি পরিবারের জীবন-এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে একটুখানি অসতর্কতাই কেড়ে নিতে পারে অমূল্য প্রাণ এবং ডেকে আনতে পারে এমন এক শোক, যার ভার কোনোদিনই হালকা হয় না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version