ড্রোন-রকেট মোকাবিলায় উচ্চশক্তির লেজার প্রযুক্তি; ভারত-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

আকাশ প্রতিরক্ষায় অত্যাধুনিক লেজার প্রযুক্তি ‘আয়রন বিম’ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ইসরায়েল। ভারত-ইসরায়েলের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর করার আলোচনায় দেশটির ১০০ কিলোওয়াট শ্রেণির এই উচ্চশক্তির লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের নজরে রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যে Iron Beam-সহ উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।

প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষার পরিবর্তে উচ্চশক্তির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে আকাশপথের হুমকি ধ্বংস করাই Iron Beam-এর মূল বৈশিষ্ট্য। রকেট, মর্টার ও ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এটি তৈরি করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় সিস্টেমটি এসব ধরনের হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং এটি Iron Dome, David’s Sling ও Arrow-এর পাশাপাশি একটি পরিপূরক প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Iron Beam নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার একটি বিষয় হলো এর সম্ভাব্য অত্যন্ত কম পরিচালন ব্যয়। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) প্রকাশিত সংবাদ-সংকলনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কিলোওয়াট শ্রেণির Iron Beam লেজার অস্ত্রে প্রতি শটের খরচ প্রায় ২ ডলার হতে পারে। প্রচলিত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ব্যয়ের পার্থক্য ড্রোন ও অন্যান্য স্বল্পমূল্যের আকাশ হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে।

ভারত বর্তমানে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য দ্রুতগতির আকাশ হুমকির বিস্তার ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে কম খরচে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ প্রতিরক্ষা ও উদীয়মান প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একাধিক উদ্যোগ নেয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version