খাদ্য ও ওষুধ সংকটের অভিযোগ; ইসলামাবাদের দমন-পীড়নের মধ্যে ভারতের কাছে সহায়তা চাইলেন জেএএসি নেতা সর্দার আমান খান।

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ, দমন-পীড়ন এবং অর্থনৈতিক অবরোধের অভিযোগের মধ্যে ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে পাকিস্তান সরকার খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

“আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার।”এছাড়া তিনি নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতে যেতে পারেন, সেই সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাদের এলওসির দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না। জবাবে হাজারো মানুষ “সামনে এগিয়ে চলুন” বলে স্লোগান দেন।

আমান খান আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব যদি গুলি দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলনকারীদের সামনে বিকল্প পথও খোলা থাকবে। একই সঙ্গে তিনি পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে এলওসি খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত আরেকটি বড় সমাবেশে আন্দোলনকারীরা “পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই” স্লোগান দেন। শুরুতে স্থানীয় সংস্কার ও নাগরিক অধিকার আদায়ের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ইসলামাবাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি এবং স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

চলমান সংকট পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের জনগণ এবং ইসলামাবাদ-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে। গত ৫ জুন পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে প্রায়শই সেই দলই জয়ী হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সর্দার আমান খানের ভারত থেকে সহায়তা চাওয়া এবং এলওসি খুলে দেওয়ার আহ্বান তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান। ভারত বা পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version