বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সমতা, সমমর্যাদা ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে এ সম্পর্ক পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করে। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই প্রত্যাশিত আচরণ সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায়, বিভিন্ন অধ্যাদেশ, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ নানা বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ পাস না করায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণে তারা ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের পথে এগোচ্ছে। তার মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন ও সংস্কার কার্যকর করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে দলটির আমির জানান, ইতোমধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জামায়াত।

তিনি বলেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ছায়া মন্ত্রিসভার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলের প্রস্তুতি ও বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বক্তব্য দেন।

সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সুশাসন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version