মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। টানা দুই দিনের বিশেষ অভিযানে ৪৬০ বাংলাদেশিসহ মোট ১ হাজার ৪৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর প্রতিবেদনে বুধবার (১২ আগস্ট) বলা হয়, দেশটির বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং বিদেশি নাগরিকদের বেশি আনাগোনা রয়েছে- এমন স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ১ হাজার ৪৩ জনের মধ্যে ৮৮০ জন পুরুষ এবং ১৬৩ জন নারী। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
আটক বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ৪৬০ বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ এবং ৯১ জন নারী।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অভিবাসন বিভাগের তথ্য এবং গোয়েন্দা সংস্থার পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি আবাসিক এলাকা ও বিদেশিদের অবস্থানস্থলকে অভিযানের জন্য চিহ্নিত করা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে- এমন অভিযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের পর আইন প্রয়োগকারী তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের পরও এ বিষয়ে নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জাকারিয়া শাবান।
দুই দিনের এই অভিযানে আটক বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বোচ্চ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ৪৬০ বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ ও ৯১ জন নারী রয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস ও কাজ করেন। দেশটির বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে এ ধরনের বড় আকারের অভিযান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বৈধ কাগজপত্র, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নথিপত্র এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবন্ধিত বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের বৈধ কাগজপত্র ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


