২০০৭ সালের একটি সাধারণ ফটোশুট- তখন হয়তো কেউই ভাবেনি, সেই মুহূর্ত একদিন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হবে। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, তরুণ লিওনেল মেসি স্নেহভরে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই লামিনে ইয়ামাল- স্পেনের বিস্ময়বালক, যিনি আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিরই প্রতিপক্ষ।

সময়টা ছিল ২০০৭ সাল। তখন মাত্র ২০ বছর বয়সী মেসি বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা। ইউনিসেফের একটি বিশেষ ফটোশুটে অংশ নিতে তিনি ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুম থেকে পাশের একটি কক্ষে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সী তরুণী মা শিলা ইবানা এবং তাঁর কোলের ছোট্ট ছেলে। ইউনিসেফের আয়োজিত একটি লটারিতে বিজয়ী হওয়ায় মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান তারা।

শিলা ইবানা, যার শিকড় একুয়েটোরিয়াল গিনিতে, কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই মরক্কো বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের সন্তানই ছিলেন সেই ছোট্ট শিশু- লামিনে ইয়ামাল।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট, যিনি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন, জানান, মেসি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। প্লাস্টিকের একটি ছোট পানির টবে বসে থাকা শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও প্রথমে বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই তোলা হয় কয়েকটি ছবি, যা পরবর্তীতে ইউনিসেফের ক্যালেন্ডারে প্রকাশিত হয়।

এরপর দীর্ঘদিন ছবিগুলো আড়ালেই ছিল। কেউ কল্পনাও করেনি, সেই শিশুটি একদিন বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার হয়ে উঠবেন। ২০২৪ সালে ইয়ামালের ইউরো অভিষেকের সময় তাঁর বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে লেখেন, “দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।” মুহূর্তেই ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে ভাসিয়ে দেয়।

আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্টও পরে জানতে পারেন, তাঁর ক্যামেরায় ধরা সেই শিশুই আজকের লামিনে ইয়ামাল। তিনি বলেন, এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।

এখন সময় যেন পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন করেছে। যে মেসির কোলে বসে একদিন ছবি তুলেছিল ছোট্ট ইয়ামাল, সেই ইয়ামালই আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের হয়ে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার বিপক্ষে। একটি ছবি, দুটি প্রজন্ম এবং ফুটবল ইতিহাসের এক অসাধারণ গল্প- যা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version