মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপাচার চক্রের বড়সড় সন্ধান- মোমের তৈরি ক্যাপসুলে লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল কোটি কোটি রুপির স্বর্ণ। ভারতের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৬.৮৫ কেজি বিদেশি স্বর্ণ জব্দ করেছে দেশটির রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিআরআই)। এ ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রীসহ একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার এক গ্রাউন্ড স্টাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ কোটি রুপি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। শনিবার মুম্বাই বিমানবন্দরে চালানো বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
ডিআরআই কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ স্বর্ণপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি মুম্বাই বিমানবন্দরকে মূলত ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশ থেকে ভারতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করছিল।
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরআইয়ের মুম্বাই আঞ্চলিক ইউনিট বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বেসরকারি একটি বিমান সংস্থায় কর্মরত গ্রাউন্ড স্টাফকে আটক করে। তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে মোমের মধ্যে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের গুঁড়াসহ সাতটি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই গ্রাউন্ড স্টাফের কাছ থেকে পাচারচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ডিআরআই। কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশফেরত ট্রানজিট যাত্রীদের ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে স্বর্ণ বাইরে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল।
তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকেও মোমে মোড়ানো আরও নয়টি ক্যাপসুল উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। এসব ক্যাপসুলের ভেতরেও স্বর্ণ থাকার কথা জানিয়েছে ডিআরআই।
চক্রটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জাল বেশ বিস্তৃত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও মালদ্বীপের মালে থেকে মুম্বাইগামী যাত্রীদের ব্যবহার করে ভারতে স্বর্ণ ঢোকানো হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযানটির গোপন নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট গোল্ডস্ট্রাইক’। অভিযানের মাধ্যমে শুধু স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে পাচারচক্রের সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ডিআরআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত বড় একটি স্বর্ণপাচার নেটওয়ার্কের অংশ- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির অর্থের উৎস, পাচারের রুট, বিদেশি সহযোগী এবং বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


