রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কাউনিয়া থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর টিপে দেওয়ার কথা বলে এক শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। অভিযোগ, সেখানে ম্যাসাজ করার একপর্যায়ে ওই শিশুর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এরপর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও নিজের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ফের তাকে নিপীড়নের চেষ্টা করা হলে শিশুটি কৌশলে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায় সে।

ভুক্তভোগীর স্বজনেরা রাতেই বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। পরে শালিস শুরু হওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপনে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভুক্তভোগীর স্বজন, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আজিজুল হুজুর প্রায়ই তাকে রাতে কক্ষে ডেকে শরীর ম্যাসাজ করতে বলতেন। এতে রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হতো। এর আগেও তাকে একইভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে শিশুটি। বাইরে কাউকে ঘটনা জানালে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হতো বলেও সে জানায়।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান। তার দাবি, তিনি শিক্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেননি। সকালে কীভাবে সবার অগোচরে ওই শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে চলে গেছেন, তা তিনি জানেন না।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার ধর্ষণ আইনের ধারায় মাদ্রাসাশিক্ষক আজিজুল হাকিমকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version