যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক (পাবলিক বেনিফিট) সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরশীলতা এবং ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও কঠোর করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা দেশটির সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। সে কারণে নতুন অভিবাসীরা যেন অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো- ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

তবে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে অভিবাসী ভিসার আবেদন করবেন, তারাই এ স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন।

অন্যদিকে অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা-যেমন পর্যটন (বি-১/বি-২), শিক্ষার্থী (এফ-১), বিনিময় কর্মসূচি, ব্যবসা বা অন্যান্য অস্থায়ী ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। এসব ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই চলবে।

মার্কিন দূতাবাসের এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া নানা প্রশ্নের কিছুটা স্পষ্টতা এসেছে। তবে ভিসা স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে বা পর্যালোচনা শেষে নতুন নীতিমালা কবে কার্যকর হবে-সে বিষয়ে দূতাবাস এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version