মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ক্রিস্টাল’ নামের একটি সিন্থেটিক মাদক। কঠোর আইন প্রয়োগের কারণে এসব দেশে একটি ট্যাবলেট বা সামান্য পরিমাণ মাদক বহন করাও ভয়াবহ আইনি পরিণতির কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, এমনকি মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

এদিকে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যাহত হওয়ায় কিছু দেশের মধ্যে প্রচলিত ডলারভিত্তিক আমদানি-রপ্তানির পরিবর্তে বিনিময় (Barter Trade) পদ্ধতি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকেও কিছু দেশে বিনিময় ব্যবস্থায় সিমেন্ট, চিনি, পেঁয়াজ, সার ও জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বা বিনিময়ের আলোচনা চলছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে আসছে ইয়াবা ও ‘ক্রিস্টাল মেথ’ (মেথামফেটামিন)- এমন অভিযোগ বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র ও মাদকবিরোধী সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘ক্রিস্টাল মেথ’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সিন্থেটিক মাদকগুলোর একটি। এটি অল্প সময়েই আসক্তি তৈরি করে এবং ব্যবহারকারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। একই সঙ্গে এই মাদকের আন্তর্জাতিক পাচারচক্র সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। বিশেষ করে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বিদেশগামী কর্মী, পর্যটক ও প্রবাসীদের কোনো অপরিচিত ব্যক্তির লাগেজ বা পার্সেল বহন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থার বিস্তারের সুযোগে আন্তর্জাতিক মাদকচক্র আরও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সীমান্ত নজরদারি জোরদার, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version