রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনা ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। নিহত চারজনই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য। গ্রেপ্তার দুই যুবকও একই সম্প্রদায়ের হওয়ায় তদন্তের স্বচ্ছতা ও প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসায় অবস্থান করে গোসল, খাবার ও মাদক সেবন করে এবং পরে নিহতদের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সেগুলো একটি মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে রাখে। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন- চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকলে স্বর্ণালঙ্কার মন্দিরের পেছনে লুকানোর কারণ কী? উদ্ধার হওয়া অলঙ্কারে অভিযুক্তদের ডিএনএ বা আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে কি?
হত্যাকাণ্ডের পর তারা কেন ঘটনাস্থলে এতক্ষণ অবস্থান করেছিল, তাদের শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন ছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে তাদের ডিএনএ পাওয়া গেছে কি না- এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
গণপতি চক্রবর্তী অবসরজীবনের সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন এবং এ নিয়ে চাঁদা দাবির কোনো ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিষয়টি সত্য হলে এটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মরদেহের অবস্থান ও পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রম। কে কোথায় এবং কখন নিহত হয়েছেন, মরদেহ কোথায় পাওয়া গেছে এবং ময়নাতদন্তের তথ্য পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে কতটা মেলে- তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের প্রাথমিক বয়ান নয়- ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত, সিসিটিভি, মোবাইল ডেটা, ময়নাতদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণই নির্ধারণ করুক রংপুরের চার হত্যার প্রকৃত সত্য।


