রংপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলনের ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির একটি অংশে একজন সেনা সদস্যকে উপস্থিত জনাবিশেক সেনাবাহিনীর পোষাক পরিহিত সেনাসদস্যদের সামনে দেশপ্রেম ও ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে সেনাসদস্যদের প্রস্তুত থাকার কথা জানানো হয়।
রংপুর জেলার কিছু অঞ্চল নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন দাবী করে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলনের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে একজন সেনা সদস্যকে বলতে শোনা যায়;
“আপনারা জানেন, ভারতীয় শত্রুরা হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র রংপুর খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ জেলা দখল করে নিয়েছে। তাই আমাদের রক্ত টগবগ করছে। বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র রংপুরকে আমরা শত্রুমুক্ত করতে পারবো, দখলমুক্ত করতে পারবো। প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আরো বলা হয়, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে অবস্থান বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। একই এই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে না।”
এছাড়াও ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে বলা হচ্ছে, “রংপুর জেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বড় ধরনের বহর মোতায়েন রয়েছে এবং ভারী অস্ত্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরও গোপনীয়তা বজায় রেখে মার্কিন সেনাদের অবস্থান রয়েছে”।
এই ভিডিওর সত্যাসত্য সরকারেরই নিরিক্ষা করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নানা ধরনের দাবি প্রচার করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, রংপুর জেলার কিছু এলাকা ভারতীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমনকি তাদের সাথে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিও রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে এমন কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিংবা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো সংস্থাও এ ধরনের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনুপ্রেরণামূলক বা রণপ্রস্তুতিমূলক বক্তব্য দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই বক্তব্যকে প্রকৃত প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উস্কানীমূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং জনমনে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুজব বা অপপ্রচার জনস্বার্থের পরিপন্থী। তাই এ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছে।


