দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু ও সহিংস ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে জনপদ। খুলনা, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, নড়াইল, কক্সবাজার, ভোলা ও শেরপুরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অন্তত আটজনের প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কোথাও কুপিয়ে, কোথাও পিটিয়ে, কোথাও পারিবারিক বিরোধে, আবার কোথাও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ঘটেছে এসব মৃত্যু।
খুলনার রূপসায় প্রকাশ্যেই দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন হাসান ওরফে বিহারী হাসান (৬০)। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে চৌরাস্তার মোড়ে হামলার ঘটনা এলাকাবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকায় স্থানান্তরের পথে তার মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় জহুরুল প্রধানের (৪৫) জন্য। এক ঘুষিতেই প্রাণ হারাতে হয় তাকে। সামান্য বিরোধ যে কত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এ ঘটনা তার নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পারিবারিক সম্পর্কের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখেছে স্থানীয়রা। ঘুমন্ত বাবাকে শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। ভোরের নীরবতা ভেঙে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
নড়াইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নেয় ৭৫ বছর বয়সী মোস্তফা কাজীর। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। একই জেলায় যৌতুকের দাবিতে লাজিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে প্রাণ হারান বড় ভাই নুরুল ইসলাম। ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে।
ভোলার চরফ্যাসনে গৃহবধূ জরিনা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আত্মহত্যার দাবি করা হলেও লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও শ্বশুরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
অন্যদিকে শেরপুরে ধানক্ষেতের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইজিবাইক চালক কাজল মিয়ার মরদেহ। স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
ক্রমাগত এমন হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- কেন তুচ্ছ বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা সামাজিক সংঘাত বারবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে? নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় মানুষের মনে যে শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে কাটছে না।


