দেশের শিল্পখাতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাগণ। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের চাপ, কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। কোথাও কোথাও কারখানা সাময়িক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে তারা জানান। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্প মালিকদের ভাষ্য, উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও বাজারে সেই অনুপাতে চাহিদা বাড়ছে না। একই সঙ্গে ডলার সংকট এবং ঋণের উচ্চ সুদের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান সংকট শুধু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের ফল নয়; দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তারা বলছেন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে শিল্পখাতের সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এবং শিল্পখাতের সমস্যা সমাধানে ধীরগতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় নতুন বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হয়েছে এবং অনেক উদ্যোক্তা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন সীমিত করেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক তৈরি পোশাক কারখানাও কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাতকে রক্ষা করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকিং খাত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


