৫ই আগস্ট, বাংলাদেশ পুলিশ গণহত্যা দিবস। এই দিবসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেছেন নির্মমভাবে নিহত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন সেই দিনের ভয়াবহ মুহূর্ত, স্বামীর সঙ্গে শেষ কথোপকথন, ছোট্ট কন্যা নাবিলার অসহায় স্মৃতি এবং বিচারের প্রত্যাশা।

তিনি বললেন, সেদিন সকালটি ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার কথা জানিয়ে থানার এক সহকর্মীর ফোন আসে। সকালের নাশতা শেষে স্বামী প্রতিদিনের মতো বিদায় নেন। যাওয়ার আগে ছোট্ট মেয়ে নাবিলাকে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলেন, আর নাবিলা বাবাকে সালাম জানায়। স্ত্রী লিখেছেন, সেটিই ছিল বাবা-মেয়ের শেষ কথা।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন যতবার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে, প্রতিবারই তিনি শুধু বলেছেন, “আমি নিরাপদে আছি, তুমি সাবধানে থেকো।” শেষবার ফোনে কথা বলার সময় তিনি মেয়ের নাম উচ্চারণ করতে চাইলেও বাক্য শেষ করার আগেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্মৃতিচারণে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়েও তাঁর স্বামী রক্ষা পাননি। এমনকি আহত অবস্থায় পানি চাইলেও কেউ তাকে সাহায্য করেনি বলে তিনি দাবি করেন। ছোট্ট মেয়ের কথা বলে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসপাতালে স্বামীর নিথর দেহ দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, পুরো মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ছিল, শরীর সাদা কাপড়ে মোড়ানো। শুধু পায়ের আঙুল দেখে তিনি স্বামীকে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। সেই দৃশ্য আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশ ছিল ছোট্ট নাবিলার প্রতিক্রিয়া। হাসপাতালের সেই দৃশ্য দেখে শিশুটি ভয়ে কেঁদে ওঠে এবং বলে, “ওটা আমার বাবা না, ওটা মানুষ। বাসায় যাবো, ঘুমাবো।” মায়ের আশঙ্কা, বড় হয়ে নাবিলা হয়তো আক্ষেপ করেই বলবে, “আরও একবার কেন বাবাকে দেখলাম না?”

স্মৃতিচারণের শেষাংশে নিহত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে লিখেছেন, স্বামীর এত কাছে থেকেও তাঁর জন্য কিছুই করতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীতে বিচার না হলেও পরকালে অবশ্যই বিচার হবে- এই বিশ্বাসই তাকে আজও শক্তি জোগায়।

৫ আগস্টে পুলিশ গণহত্যার ঘটনাকে ঘিরে এমন অসংখ্য পরিবারের শোক, বেদনা ও স্মৃতি এখনও সমাজকে নাড়া দেয়। নিহতদের স্বজনরা সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version