ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে লিওনেল মেসিকে কড়া নজরদারিতে রাখার কৌশল নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার জাদুর কাছেই হার মানতে হয়েছে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলকে।

সেমিফাইনালের আগে টুখেল বলেছিলেন, মেসিকে থামাতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ম্যাচের দীর্ঘ সময় সেই পরিকল্পনা সফল বলেই মনে হচ্ছিল। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপর মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। তবে দুটি গোলের পেছনেই ছিল লিওনেল মেসির অসাধারণ সৃজনশীলতা। দুই গোলেই শেষ পাসটি আসে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পা থেকে, যা আবারও প্রমাণ করে- ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে তার কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।

ম্যাচ শেষে হতাশ টমাস টুখেল অকপটে স্বীকার করেন, মেসির মতো ফুটবলারকে পুরো ম্যাচে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, “আপনি হয়তো তাকে ৮৫ মিনিট আটকে রাখতে পারবেন, কিন্তু সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য মেসির ৫ সেকেন্ডই যথেষ্ট। আজ আমরা এমন একজন ফুটবলারের কাছে হেরেছি, যিনি ৩৯ বছর বয়সেও ফুটবলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে চলেছেন। নিজের চোখের সামনে ইতিহাস তৈরি হতে দেখা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

টুখেলের এই মন্তব্য যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিল, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। বড় ম্যাচে লিওনেল মেসি এখনও সেই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার নাম, যিনি মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা ভেঙে দিতে পারেন। তার অনবদ্য নেতৃত্ব ও দুটি অ্যাসিস্টে ভর করে আর্জেন্টিনা এখন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version