বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের আরও গভীরতা নিয়ে বিএনপিরধারাবাহিক কাজ চালিয়ে যাওয়া। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে টানাপোড়েন ছিল, ২০২৪ সালের দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তা দ্রুত বদলে যায়। কথিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া ঘনিষ্ঠতা বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় দুই দেশের যোগাযোগ বেড়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে চুক্তি হয়েছে, তা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি যা বাংলাদেশকে বাণিজ্যে স্পষ্ট আমেরিকার গোলামীর প্রমাণ মেলে। বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্ককে উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখনো পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি। নির্বাচনের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিক না হওয়া, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তির আবহ বজায় রেখেছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে ঢাকা। ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার চেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঢাকা-ব্রাসেলস সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৌশলগত সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কূটনৈতিক চিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা এবং চীন ও ইউরোপের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলই সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে যা স্পষ্ট কোনো নির্দিষ্ট কিছুর গভীরতা প্রমাণ করেনা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version