নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজুও তার মুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, গত এক বছরে কথিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা হয়। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও সব কটি মামলাতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
সর্বশেষ কথিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। এর ফলে খায়রুল হকের জামিন কার্যকর হতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ওই রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর একের পর এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় জামিন পাওয়ার পরও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেননি।
২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হয়। তবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তার কারামুক্তি আটকে ছিল। সর্বশেষ মামলাতেও জামিন বহাল থাকায় দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত হলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের বছর ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।


