লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে ব্যক্তির মাধ্যমে হত্যা করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও জামায়াতের রুকন আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তিনি লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। তবে মামলার নথিপত্র ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান আবেদনটি খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন হিসেবে পরিচিত। তিনি একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা এবং আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
নিহত সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে। বিচ্ছেদের পর জমি কেনার জন্য নেওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই বিরোধ থেকেই সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবু বকর ছিদ্দিক।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে ভাড়াটে ব্যক্তি মো. সেলিমকে দিয়ে সালেহা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মো. সেলিমকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, সেলিম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আবু বকর ছিদ্দিক তাঁকে সালেহা বেগমকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সেলিম শুরু থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর ছিদ্দিক দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অবশেষে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসাইন জানান, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।


