প্রয়োজনের সময়ে সার না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষকেরা। সারের দাবিতে পাইকেরছড়া ইউনিয়নে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ঘুরেও সরকারি দামে প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। বাধ্য হয়ে অনেককে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষকেরা। দীর্ঘ সময় অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তারা অনেক সময় সার না পাওয়ার কথা শুনছেন। আবার একই সার খোলাবাজারে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাড়তি টাকা খরচ করে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের ফলন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পাইকেরছড়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে সার মজুদের ঘটনায়। সম্প্রতি গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ইটভাটার দুটি ঘর থেকে ১৬ বস্তা ইউরিয়া ও ৭ বস্তা ডিএপি এবং একটি কীটনাশকের দোকান থেকে ৯ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রশাসন বলছে, কৃষি মৌসুমে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রির কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে সার নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষকদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির অভিযোগও সামনে এসেছে।

সার নিয়ে ভূরুঙ্গামারীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এখন শুধু কৃষকের দুর্ভোগের বিষয় নয়; এটি সার বরাদ্দ, ডিলারদের বিতরণ ব্যবস্থা, মজুদদারি ও বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। কৃষকদের দাবি, কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেখিয়ে লাভ নেই- সময়মতো ন্যায্যমূল্যে মাঠের কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।

কারণ, আমন মৌসুমে কয়েক দিন দেরিও কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর সেই ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে দেশের খাদ্য উৎপাদনকারী কৃষককেই।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version