সারের সংকট এবার শুধু কৃষকের মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; এর বড় প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ভোক্তার ওপরও। সময়মতো সার না পেলে আমন ধানের ফলন কমে যেতে পারে। উৎপাদন কমলে বাড়তে পারে চালের দাম। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চালের দাম মাত্র ১০ শতাংশ বাড়লে নতুন করে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন সার প্রয়োজন হয়, যার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে দেশের সাতটি সার কারখানার তিনটি বন্ধ থাকায় আমদানিনির্ভরতা আরও বেড়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। সরকারও গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। কোথাও সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কোথাও গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে প্রায় ১৭ লাখ টন নিরাপত্তামজুত রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে প্রায় ১৮ লাখ টন মজুত থাকলেও ২৪ আগস্ট তা কমে ১৪ লাখ টনে নেমেছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামানের মতে, দেশে যদি পর্যাপ্ত সার থাকে, তাহলে মূল সমস্যা বিতরণব্যবস্থায়। গুদামে সার পড়ে থাকলে কৃষকের কোনো লাভ নেই। ডিলার নিয়োগ, সার বরাদ্দ ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণে অনিয়ম আছে কি না, তা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আমন ও বোরো- এই দুই মৌসুমেই দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ধান উৎপাদিত হয়। ফলে এখন সার সরবরাহে ব্যর্থতা হলে তার প্রভাব পড়বে ধানের ফলন, চালের বাজার এবং শেষ পর্যন্ত দরিদ্র মানুষের জীবনে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version