ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আগামীকাল সোমবার বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরে তিনি ভারত-চীন বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠকে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির বিশেষ প্রতিনিধি ওয়াং ইর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার বিষয়টি দোভালের এবারের সফরে গুরুত্ব পাবে।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। সীমান্ত বিরোধের একটি সামগ্রিক সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

তবে সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিশেষ করে ২০২০ সালে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে সংঘাত ও উত্তেজনার পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়। সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অজিত দোভালের এবারের বেইজিং সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শনিবার নয়াদিল্লিতে ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বলেন, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত ভারত-চীন সম্পর্ক ‘বিশেষভাবে খারাপ সময়ের’ মধ্য দিয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত পরিস্থিতি।

জয়শঙ্কর বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে শান্তি না থাকলে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে দোভালের চীন সফরের আগে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি এলাকায় চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ার খবরও সামনে এসেছে। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজরদারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে।

দোভালের এবারের চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অংশ নেবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বেইজিং।

তবে ভারত ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন প্রত্যাশা রয়েছে যে, শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। তিনি এলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version