চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে যশোরের কোতোয়ালি উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ বলছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাচেষ্টাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গত দেড় বছরে চট্টগ্রামের একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় তাঁর নাম এসেছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক বলেন, চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন ডেভিড ইমন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে অভিযানের তথ্য পেয়ে তিনি আবার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের কাছে দেশি ও বিদেশি দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। আটকের পর ডেভিড ইমন নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। তবে আগে থেকেই তাঁর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকায় তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেভিড ইমন। বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধচক্র পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বর্তমানে এই চক্রের আরেক সদস্য মোহাম্মদ রায়হান পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে চট্টগ্রামে সংঘটিত অন্তত ১১টি হত্যাকাণ্ডে ডেভিড ইমনের নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ গত ১১ জুলাই নগরের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না পেয়ে কয়েক দিন পর ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এ ছাড়া জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের এক নেতাকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি, একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং নির্মাণাধীন ভবনে হামলার অভিযোগেও তাঁর নাম এসেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন অপরাধ জগতে জড়িয়ে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত হন। কারাগারে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি ওই চক্রে যোগ দেন। পরে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকেন বলে পুলিশের দাবি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং তাঁর অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version