দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটের মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবার যেন ধীরে ধীরে বিলাসপণ্যে পরিণত হচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা-২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশে এই হার সবচেয়ে বেশি, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে একজন মানুষের দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় ব্যয় ছিল ৩.৯ ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৫৯ ডলারে। অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সরে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাদ্য, বাদাম, বীজ, শাক-সবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বি সমন্বিত সুষম খাদ্যতালিকাকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কোটি কোটি মানুষ সেই খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে পারছেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি, মূল্য নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের ভাষ্য, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে সংকট আড়াল করা সম্ভব নয়; কোটি মানুষের পাতে পুষ্টিকর খাবার না পৌঁছানো নীতিনির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version