বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পর্তুগালের জয়ে স্কোরশিটে নাম তুললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে ৮১ মিনিট মাঠে ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে ম্যাচের পর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পেনাল্টি থেকে গোল করা ছাড়া পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের বক্সে তিনি আর একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি।
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। পরে ৬৮তম মিনিটে ভিএআরের সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। তবে গোলের পরও আক্রমণভাগে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৮১তম মিনিটে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তাকে তুলে নেন এবং বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে পর্তুগালকে পরের রাউন্ডে তুলে দেন।
রোনালদোর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখলেও ওপেন প্লেতে তিনি খুব কমই কার্যকর ছিলেন। রয়টার্সের ম্যাচ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, পেনাল্টির মুহূর্তটি বাদ দিলে প্রতিপক্ষের বক্সে সেটিই ছিল তার একমাত্র বল স্পর্শ। এই পরিসংখ্যানকে সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ৪১ বছর বয়সী এই তারকার বর্তমান ভূমিকা আদৌ আগের মতো কার্যকর নেই।
পর্তুগাল কোচের দাবি, অভিজ্ঞতার কারণে রোনালদো এখনও দলের সদস্য। যদিও কোচের সাহসী বদলির সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক চললেও একটি বিষয় স্পষ্ট, স্কোরশিটে নাম থাকলেও ওপেন প্লেতে তার প্রভাব আগের মতো নেই। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করাই একজন স্ট্রাইকারের প্রধান কাজ, আর সেই দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। ফলে তার পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামার সম্ভাবনা নেই। ম্যাচে ৮১ মিনিট উপস্থিত থেকে প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্য বল স্পর্শ না করতে পারাও একটা বিশ্ব রেকর্ড!


