বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করলে তার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে পারিশ্রমিক আদায় করা হবে।

সম্প্রতি ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকব এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। আমরা হব এই প্রণালির অভিভাবক। এমনকি এর নামও হতে পারে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। তবে এই দায়িত্ব বিনামূল্যে পালন করা হবে না- এর জন্য আমাদের যথাযথ পারিশ্রমিক দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং এর বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য অর্থ গ্রহণ করব। কারণ যেসব দেশ এই পথ ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত ধনী। তারা আমাদের মিত্র হলেও বিনা মূল্যে এই সেবা পাওয়ার আশা করতে পারে না।”

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করত। ফলে এই প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version