হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শর্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি খুলতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরার পর এবার উল্টো তেহরানকে একাধিক শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ, হামলা ও বিভিন্ন বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে গত কয়েক দশকে ইরানের কর্মকাণ্ডে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্যও অর্থ পরিশোধের দাবি জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ চাইবে। এর মধ্যে বিভিন্ন বিক্ষোভে নিহত মানুষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও থাকবে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেই অর্থ ইরানকেই দিতে হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এর আগে প্রকাশ্যে এমন শর্তের কথা জানাননি ট্রাম্প।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শর্তগুলো মূলত গত জুনে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। তার দাবি, ছয় সপ্তাহ আগের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ গত ফেব্রুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার বলে জানিয়েছিল।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় সংঘাত ও প্রাণহানির জন্যও ইরানকে দায় নিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি শর্ত সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। সোমবার দিন শেষে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version