বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে বয়স যেন কেবল একটি সংখ্যা আবারও সেটিই প্রমাণ করে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও আরও পরিণত, আরও কার্যকর এবং আরও ভয়ংকর রূপে দেখা যাচ্ছে এই কিংবদন্তিকে।
চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির পারফরম্যান্স পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মাঠের খেলাতেও অসাধারণ। গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, আক্রমণ গড়ে তোলা, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে বল এগিয়ে নেওয়া, নিখুঁত পাস এবং ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মেসিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও তাঁর ফিটনেস, ফুটবল বুদ্ধিমত্তা এবং আত্মবিশ্বাস দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক ছিলেন মেসি। সেই আসরে তিনি গোল, অ্যাসিস্ট ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন। কিন্তু চলমান বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে অনেক বিশ্লেষক ও সমর্থক মনে করছেন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিক থেকে এবার তিনি আরও পরিপূর্ণ ফুটবল খেলছেন।
মেসির উপস্থিতি আর্জেন্টিনা দলকেও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া, নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। প্রতিটি ম্যাচেই তাঁর একেকটি মুহূর্ত যেন নতুন করে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি ড্রিবল এবং প্রতিটি পাস এখন কোটি কোটি দর্শকের আলোচনার বিষয়। তাই অনেকের মতেই, কাতারে বিশ্বজয়ের স্মৃতি যতই উজ্জ্বল হোক না কেন, চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সেই স্মৃতিকেও নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন মেসির দিকেই। তিনি কি আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাতে পারবেন? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যেই স্পষ্ট লিওনেল মেসির জাদু এখনো ফুরিয়ে যায়নি; বরং বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি আবারও নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।


